বাড়িতে গাঁজা চাষের অনুমতি দেওয়া নতুন নিয়মটি উপলক্ষে থাই সরকার জুন মাসে দেশজুড়ে পরিবারগুলোর মধ্যে বিনামূল্যে দশ লাখ গাঁজার চারা বিতরণ করবে বলে জানিয়েছেন জনস্বাস্থ্য মন্ত্রী।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুল ৮ই মে একটি ফেসবুক পোস্টে এই পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করেন, যেখানে তিনি 'গৃহস্থালি ফসল' হিসেবে গাঁজা গাছ চাষ করার অভিপ্রায় ব্যক্ত করেন।
বাড়িতে চাষ করুন
৯ই জুন থেকে কার্যকর হতে যাওয়া নতুন নিয়মটি অনুযায়ী, স্থানীয় সরকারকে অবহিত করার পর বাড়িতে গাঁজা গাছ চাষ করা যাবে, তবে গাছগুলো অবশ্যই চিকিৎসাগত মানের হতে হবে এবং শুধুমাত্র ব্যবহারের জন্য হতে হবে। ঔষধি উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা যাবে। অধিকন্তু, অতিরিক্ত লাইসেন্স ব্যতীত গাঁজা বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা যাবে না।
এই নতুন আইনটি অর্থকরী ফসল হিসেবে গাঁজার প্রসারের জন্য থাইল্যান্ডের পরিকল্পনার সর্বশেষ পদক্ষেপ। অবৈধ মাদকের জন্য কঠোর শাস্তির জন্য কুখ্যাত একটি অঞ্চলে, থাইল্যান্ড ২০১৮ সালে চিকিৎসা গবেষণা ও ব্যবহারের জন্য গাঁজাকে বৈধতা দেওয়া দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রথম দেশ হয়ে ওঠে।
রাজ্যটি গাঁজা সংক্রান্ত স্থানীয় আইনও শিথিল করেছে। ভোগ্যপণ্যে শণ ও সিবিডি-র ব্যবহার অনুমোদিত হওয়ার পর, গত বছর থাই পানীয় ও প্রসাধনী সংস্থাগুলো দ্রুত শণ ও সিবিডিযুক্ত পণ্য বাজারে আনে।
বাণিজ্যিক গাঁজা গাছ
১০ই মে আরেকটি ফেসবুক পোস্টে আনুতিন উল্লেখ করেন যে, এর জন্য নিবন্ধিত থাই কোম্পানিগুলো ০.২ শতাংশের কম টেট্রাহাইড্রোক্যানাবিনল বা টিএইচসি (উদ্ভিদের যে অংশটি নেশার জন্য দায়ী) যুক্ত গাঁজা পণ্য বিক্রি করতে পারবে। আনুতিন লিখেছেন, “এর ফলে জনগণ এবং সরকার গাঁজা ও শণ থেকে প্রতি বছর ১০ বিলিয়ন বাতের বেশি রাজস্ব আয় করতে পারবে।”
ব্যাংকক-ভিত্তিক গাঁজা উদ্যোক্তা কিটি চোপাকা সিএনএন-কে বলেছেন যে, এই আইনটির উদ্দেশ্য হলো সকলের জন্য ঔষধি চা বা স্যুপে এই উদ্ভিদটি ব্যবহারের পথ প্রশস্ত করা। “কোনো রোগের চিকিৎসার জন্য বৈধ ব্যবস্থাপত্র না থাকলে এটি এখনও অপরাধমূলক বলে গণ্য হবে। শুধুমাত্র তখনই আপনি বাড়িতে গাঁজা চাষ করতে এবং নিজের ইচ্ছামতো তা ব্যবহার করতে পারবেন।”
তিনি আরও বলেন যে, যদিও বিনোদনের জন্য মাদকটির ব্যবহার বেআইনি, তবুও গাঁজা সেবন চলবেই। এটি কোনোভাবেই থামানো বা দমন করা সম্ভব নয়।
উৎস: editie.cnn.com (Bn)



